বুধবার, ১৩ মে, ২০১৫

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর শান

    ইমাম আবু হানিফা (রহ.) জীবদ্দশাতেই হিংসুকরা তাঁর বিরুদ্ধে আপবাদ রটাতো। সেই হিংসুকদের বংশধরেরা আজো জীবিত। তারা তাদের পূর্বপুরুষেরর অনুসরণ করছে............
    ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর শান-মান কত দেখুন-
    (লেখাটি আমাকে চমৎকৃত করেছে তাই কপি করলাম)
    মহানবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ফিকহ শাস্ত্রের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ছিল না। এর প্রয়োজনও ছিল না। কেননা, তখন-যখনই কোন সমস্যার উদ্ভব হত, সাথে সাথে এ ব্যাপারে সরাসরি কোরআনের আয়াত নাজিল হত, নতুবা নবী করিম (দ.)-এর সমাধান দিয়ে দিতেন। পরবর্তীতে সাহাবা ও তাবেয়ীদের যুগে ইসলামের আলোক রশ্মি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানগণ বিভিন্ন জাতির সংস্পর্শে আসে। নতুন নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে তাদের পরিচয় ঘটে। মুসলমান সমাজে নূতন নূতন সমস্যা দানা বেধে ওঠে। যার সমাধান কোরআন মজিদ ও হাদীস শরীফে প্রত্যক্ষভাবে উল্লেখ নেই। এমনি সময়ে শিয়া, খারেজী, রাফেজী, মু’তাযিলা ইত্যাদি বাতিল ফেরকার আবির্ভাব ঘটে। এমন এক বিপর্যয় কবলিত যুগ সন্ধিক্ষণে তাবেয়ীদের যুগের শেষের দিকে আহলে সুন্নাতের ওয়াল জামাতের অনুসারী আলেম সম্প্রদায় কোরআন-সুন্নাহর আলোকে এমন একটি সার্বজনীন আইন শাস্ত্র সম্পাদনায় হাত দেন, যা সকল স্থান, কাল ও পাত্রের জন্য প্রযোজ্য। এর পূর্ণাঙ্গ রূপই আজ ইলমে ফিকহ বা ইসলামী আইন শাস্ত্র (যা দিনিয়াত, আমলিয়াত, আখলিয়াত) এর সমষ্টি। ইমাম আবু হানিফা (রা.) সর্বাগ্রে এই প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ফিকহ শাস্ত্রের যে সংকলিত ও সমন্বিত রূপ আজ আমাদের সামনে বিদ্যমান, তা ইমাম আবু হানিফা (রা.) ও তদীয় শিযাবৃন্দেরই অবদান। তিনি কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াসের ভিত্তিতে ১২ লক্ষ ৯০ হাজার মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ব মুসলিমের তিন চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠী ফিকহে হানাফির অনুসারী। অবশিষ্টরা ইমাম শাফেয়ী (রা.) ইমাম মালেক (রা.) ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রা.)-এর অনুসারী। উল্লেখিত চার ইমামের প্রবর্তিত চার মাযহাব একটি আরেকটির প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং একটি আরেকটির সম্পূরক ও পরিপূরক।
    আজকের আলোচনা যেহেতু ইমাম আজম আবু হানিফা (রা.) নিয়ে, তাই তাঁর সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোচনা বাঞ্চনীয়। তিনি হিজরী ৮০ সালে কুফাতে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ হযরত সওতী (রা.) হযরত আলী (রা.) এর যুগে ইসলামে দীক্ষিত হন। তাঁর জন্মকালে অসংখ্য সাহাবী জীবিত ছিলেন। তিনি শীর্ষ স্থানীয় তাবেয়ী ছিলেন। হযরত আনাস (রা.)সহ কয়েকজন সাহাবীকে তিনি দেখেছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি কোরআন হাদীসে অগাধ পা-িত্য অর্জন করেন। তাঁর অসাধারণ খ্যাতি ও যশ চারিদিক ছড়িয়ে পড়লে আব্বাসীয় খলিফা আস মনসুর তাঁকে রাষ্ট্রীয় প্রধান কাজীর পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিলে তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। খলিফা মনসুর ১৪৪ হিজরীতে তাঁকে কারাগারে আবদ্ধ করেন। অতঃপর ১৫০ হিজরীতে গোপনে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁকে শহীদ করা হয়। বাগদাদের খায়েজরান নামক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
    ইলমে ফিকহ তথা ইসলামী আইন শাস্ত্রের উদ্ভাবক ইমাম আজম আবু হানিফা (রা.) এর বিশাল খেদমত সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে আহলে হাদীস নামধারী সালাফী তথা লা মাযহাবী গোষ্ঠী যুগে যুগে কম অপপ্রচার চালায়নি।
    ইমাম আযম আবু হানীফা (রা.) সম্পর্কে বর্তমানে আহলে হাদীস নামধারী সালাফীরা যেমন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মিডিয়া ও লেখনির মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে তৎকালীন যুগেও তাঁর বিরুদ্ধে অহেতুক, অমূলক ও অসত্য অপবাদ কম দেয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে এক মহা অপবাদ এই ছিল যে, তিনি নাকি আল্লাহর রাসূল (দ.) এর হাদীস মানেন না। তিনি ইরাকের কুফা নগরীর আধিবাসী হলেও তাঁর বিরুদ্ধে গড়া অপবাদ তৎকালীন হেজায তথা মক্কা-মদীনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মক্কা-মদীনায় ছড়িয়ে দেয়া হয় যে, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত মতামতকে হাদীসের উপর প্রাধান্য দেন। যুক্তি ও কিয়াসের বিপরীত হলে তিনি হাদীসকে পরিত্যাগ করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তার মানে সহীহ হাদীস থাকলে সে বিষয়ে তিনি যুক্তি বা কেয়াসের কাছেও যান না। দু’জন আওলাদে রাসূলের সাথে ইমাম আবু হানিফা (রা.) এর ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার থেকে তাঁর হাদীস অনুসরণ ও কিয়াস পরিত্যাগের স্বরূপ দিবালোকের মত স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
    প্রথম ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ ইমাম বাকের (রা.)-এর সাথে
    একদা তিনি হজ্ব উপলক্ষে মক্কা মুকাররামায় পৌঁছলে সেখানে আওলাদে রাসূল (দ.) হযরত ইমাম মুহাম্মদ বাকের (রা.) (যিনি হচ্ছেন জাইনুস সাজেদীন মজলুমে কারবালা হযরত ইমাম জাইনুল আবেদীন (রা.) এর পুত্র) তাঁকে দেখে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জিজ্ঞেস করেন যে, তুমি তাহলে সেই ব্যক্তি, যে আমার দাদা (দ.) এর দ্বীনকে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে ফেলেছে? তুমি তাহলে সেই লোক যে, আমার দাদা (দ.) এর হাদীসের উপর কিয়াস তথা যুক্তিকে প্রাধান্য দাও? শুনে ইমাম আযম আবু হানিফা (রা.) বললেন, হে মহামান্য ইমাম! আমি তো এরকম কখনো করিনি! ইমাম বাকের (রা.) বললেন, তুমি তাই করেছ। ইমাম আবু হানীফা (রা.) বললেন, হে মহামান্য ইমাম! আপনি আপনার পছন্দসই উপযুক্ত জায়গায় বসেন আর আমিও আমার পছন্দসই উপযুক্ত জায়গায় বসব, তারপর আলোচনা করি। তখন হযরত ইমাম বাকের (রা.) পালঙ্ক জাতীয় এক আসনে আসীন হলে ইমাম আবু হানিফা (রা.) তাঁর সামনে নতজানু হয়ে মাটিতে বসে পড়েন এবং বললেন, হে মহান ইমাম! আপনার সামনে এভাবে বসার কারণ হলো, আমার কাছে আপনার পজিশন হলো সাহাবীদের সামনে আপনার দাদা (দ.) এর পজিশনের অনুরূপ। নিজের চিন্তাধারা স্পষ্ট করার আগে আওলাদে রাসূল (দ.) এর সাথে ইমাম আযম আবু হানীফা (রা.) এভাবেই ব্যবহার শুরু করলেন, যেন তাঁর আচরণেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তিনি আল্লাহর রাসূল (দ.) এর দ্বীন পরিবর্তন করেননি।
    অতঃপর ইমাম আবু হানীফা (রা.) বললেন, হে মহামান্য ইমাম! আপনি বলেছেন আমি আপনার দাদার দ্বীনকে পরিবর্তন করে ফেলেছি। কিয়াস ও যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়ে আপনার দাদা (দ.) এর হাদীসকে পরিত্যাগ করেছি।
    ইমাম মুহাম্মদ বাকের (রা.) বললেন, হ্যাঁ, শুনেছি, তুমি তাই করেছ।
    ইমাম আবু হানিফা (রা.) বললেন, যদি অনুমতি দেন আমি কি আপনাকে তিনটি প্রশ্ন করতে পারি?
    ইমাম মুহাম্মদ বাকের (রা.): হ্যাঁ, করতে পার।
    ইমাম আবু হানীফা (রা.) এর প্রথম প্রশ্ন: পুরুষ দুর্বল নাকি নারী?
    ইমাম মুহাম্মদ বাকের (রা.): আবশ্যই নারী দুর্বল।
    ইমাম আবু হানিফা (রা.): আপনার দাদা (দ.) এর দ্বীনে মীরাছ বা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের অর্ধেক দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। অথচ আমি যদি আপনার দাদা (দ.) এর হাদীসের উপর যুক্তিকে প্রাধান্য দিতাম তাহলে দুর্বল হওয়ার কারণে নারীকে বেশী দেয়ার জন্য বলতাম। কিন্তু আমি তা কখনো বলিনি। কারণ আপনার দাদা (দ.) এর হাদীস আমার কাছে যুক্তির উপর অগ্রাধিকার প্রাপ্ত।
    ইমাম আবু হানিফা (রা.) এর দ্বিতীয় প্রশ্ন: আল্লাহর কাছে নামাযের গুরুত্ব বেশী নাকি রোযার গুরুত্ব বেশী? ইমাম মুহাম্মদ বাকের (রা.): অবশ্যই নামাযের গুরুত্ব বেশী।
    ইমাম আবু হানিফা (রা.): হে মহান ইমাম! রমজান মাসে ঋতু¯্রাবকালে মহিলারা নামায ও রোযা আদায় করতে পারে না। অথচ নামাযের গুরুত্ব বেশী হওয়া সত্ত্বেও আপনার দাদা (দ.)-এর নির্দেশ হচ্ছে পরবর্তীতে রোযা কাযা করতে হবে নামায নয়। এখন আমি যদি আপনার দাদা (দ.)-এর হাদীসের উপর যুক্তিকে প্রাধান্য দিতাম তাহলে মহিলাদেরকে রোযা বাদ দিয়ে নামায কাযা করার জন্য বলতাম। কিন্তু আমি তা’ করিনি। ইমাম আবু হানিফা (রা.) এর তৃতীয় প্রশ্ন: হে মহান ইমাম! কোনটা বেশী অপবিত্র? প্রশ্রাব নাকি বীর্য?
    ইমাম মুহাম্মদ বাকের (রা.): আমার দাদা (দ.) এর দ্বীনে প্রশ্রাবই অধিক অপবিত্র।
    ইমাম আবু হানিফা (রা.): হে মহান ইমাম! আমি যদি হাদীস ছেড়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দিতাম তাহলে বেশী পরিমাণ অপবিত্র হওয়ার কারণে প্রশ্রাব করার পরে গোসল করতে বলতাম, আর কম অপবিত্র হওয়ার কারণে বীর্য বের হলে ওযু করার কথা বলতাম। কিন্তু আমি যুক্তিকে পরিত্যাগ করে আপনার দাদা (দ.) এর হাদীস অনুযায়ী প্রশ্রাব করলে ওযু আর বীর্য বের হলে গোসল করার কথাই বলি। যেহেতু আমি আপনার দাদা (দ.)-এর হাদীসকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকি। হে ইমাম! আমি যুক্তি ও কিয়াস দ্বারা দ্বীনকে পরিবর্তন করিনি। হে মহান ইমাম! আমি যা করার তাই করেছি। মূলত ইরাকবাসীরা দিন দিন নতুন সমস্যায় পতিত হয় আর আমি তাদেরকে আপনার দাদা (দ.) এর দ্বীনের উপর পরিচালিত কতে সচেষ্ট থাকি। তাঁর এই কথা শুনে ইমাম মুহাম্মদ বাকের (রা.) দাঁড়িয়ে ইমাম আবু হানিফা (রা.)কে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং কপালে চুমু দেন......
    সাথে একটি ভিডিও দিলাম। আরবদের মুখেই শুনুন আবু হানিফা ও হানাফী মজহাবের মহত্ব সম্পর্কে-
    https://m.youtube.com/watch?v=B-5ZgfbbmF4
  • Taru Bhuiyan এই ভিডিও ভাষ্যকার কে? #ইলমের ত্বালিব ভাই।
    11 hrs · Like · 1
  • Golam Azam Du আপনাকে অনেক ধন্যবাদ অল্প কথায় অনেক তথ্য দেয়ার জন্য|
    11 hrs · Like · 1
  • Faruk Hossen ভাই সমস্য হলো ইমামের ফতুয়া যেটা পেটের জন্য দরকার সেটা মানি,
  • Habib Mahbub এই খবিছ ঠাকুর আছে ।এই ঠাকুর ইমামদের ব্যাপারে বিরোপ মন্তব্য করে ।
    এই জাকির কুকুর ভারতের কুকুর
    2 hrs · Unlike · 1
  • Faruk Hossen যারা অন্য কে গালি দিয়ে ইসলাম প্রচার করতে চায় তারা আসলে ইসলামের কেউ না
    1 hr · Unlike · 2

মাযহাব সংকলন কি চারশ হিজরীর পরে হয়েছে

মাযহাব সংকলন কি চারশ হিজরীর পরে হয়েছে??
আমাদের কথিত আহলে হাদীস ভায়েরা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচার চালিয়ে বলে থাকে মাযহাবের সৃষ্টি হিজরী চতুর্থ শতাব্দী বা চারশত হিজরীতে।এক্ষেত্রে তারা শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ এর একটি উদ্ধৃতি বিকৃত করে পেশ করে থাকে।অথচ মাযহাব সংকলিত হয়েছে প্রত্যেক ইমামের স্ব স্ব যুগেই।এ কারণেই মহামান্য ইমামগণ রহঃ বলে গেছেন اذا صح الحديث فهو مذهبي.ভেবে দেখুন তখন যদি উক্ত ইমামের মাযহাব সংকলনই না হবে তবে তিনি উক্ত কথা কেন বলবেন?আর প্রত্যেক ইমামেরই মৃত্যু চারশত হিজরীর পূর্বে হয়েছে।তাই মাযহাবের সংকলন যদি চারশত হিজরীর পরে হত তবে কি তারা কবর থেকে উঠে একথা বলে গেছেন?তদুপরি সেই যুগেও যে এসব মাযহাবের অনুসারী ছিল তাও ইতিহাস দ্বারা প্রমাণিত।হাদীস শাস্ত্রের একজন বিজ্ঞ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহঃ (মৃত্যু২৩৩ হিজরী)বলেছেন:القرائة عندي قرائة حمزة.والفقه فقه ابي حنيفة.وعلى هذا ادركت الناس."আমার নিকট গ্রহণযোগ্য ক্বিরাআত হল হামযার ক্বিরাআত।এবং গ্রহণযোগ্য ফিকহ হল ইমাম আবু হানীফার ফিকহ।সকল মানুষকে আমি এর উপর ঐক্যবদ্ধ পেয়েছি।"(তারীখে বাগদাদ,১৩/৩৪৭)।
এখানে আমার প্রশ্ন মাযহাবের সংকলন যদি চারশত হিজরীর পরেই হবে তবে ২৩৩হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী হাদীস শাস্ত্রের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র কোথায় পেলেন এই মাযহাব?দ্বিতীয়ত মাযহাব মানার প্রয়োজনই যদি না হবে তবে ইমাম বুখারীর রহঃ উস্তাদ এত বড় মুহাদ্দিস কেন মাযহাব মানলেন?আর ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রহঃ শীর্ষস্থানীয় হানাফী ছিলেন।একথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।এখন দেখুন ইমাম যাহাবী রহঃ তাঁর সম্পর্কে কী বলেন:-وكان يحى بن معين امام الجرح والتعديل من غلاة الحنفية."ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন জারহ অ-তা'দীলের ইমাম এবং শীর্ষস্থানীয় হানাফীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।সুতরাং সাধু সাবধান!হানাফীদের প্রতি অঙ্গুলী প্রদর্শন করার পূর্বে নিজের মাকাম ও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের মাকাম একটু যাচাই করে নিবেন।
এখন আসুন ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী কর্তৃক বর্ণিত চারশত হিজরী প্রসঙ্গে:-আমরা সকলেই জানি যে,মাযহাব অনেকগুলিই ছিল।কিন্তু এ চার মাযহাব ছাড়া অন্যান্য কোন মাযহাবই সুবিন্যস্ত গ্রন্থবদ্ধ ও সংরক্ষিত হয়নি।এমনকি তাঁদের কোন অনুসারী বা মুকাল্লিদের অস্তিত্বও বিদ্যমান ছিলনা।অপরদিকে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে এ চার মাযহাব সুবিন্যস্ত গ্রন্থবদ্ধ ও সংরক্ষিত আকারে বিদ্যমান থাকে।এবং সকল মুসলমান এ চার মাযহাবের অনুসারেই ব্রতী হন।তখন এ বিষয়টির উপর ইজমা হয়ে যায় যে,চার মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাব মানা যাবে না।
উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা দ্বার বোঝাগেল চার মাযহাব সংকলন হয়েছে স্ব স্ব ইমামগণের যুগেই।তবে এ চার মাযহাবের উপর সকল উম্মতের ইজমা হয়েছে চতুর্থ শতাব্দীতে।
এখন দেখুন আমাদের সহীহ হাদীসের অনুসারী দাবীদার ভায়েরা নিজেদের মত প্রতিষ্ঠা করতে কীভাবে ইতিহাস বিকৃত করে প্রচার করছে।শুধু তাই নয় নিজেদের দলকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানা থেকে প্রমাণিত করতে যেয়ে তারা আরো একধাপ এগিয়ে সরাসরি হাদীস পর্যন্ত জাল করেছে।(ইন্নালিল্লাহ)
সুতরাং এদের থেকে সাবধান!

আসওয়াদকে সামনে রেখে (সারা রাত্র) ইবাদত করার চেয়েও উত্তম।

✏ প্রশ্ন : বর্তমানে তাবলীগের সাথীগণ বিভিন্ন জায়গায় বলে থাকেন ‘‘আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে কিছু সময় অবস্থান করা লাইলাতুল কদরে হাজরে আসওয়াদকে সামনে রেখে (সারা রাত্র) ইবাদত করার চেয়েও উত্তম।’’ এটি কি কোন হাদীস? যদি হাদীস হয় তাহলে কি মানের হাদীস সহীহ না যয়ীফ না অন্য কিছু? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
✏ জবাব : তাবলীগের সাথীগণের উল্লেখিত কথা একটি সহীহ হাদীস এর ভাষ্য। নিন্মে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো-
صحيح ابن حبان - محققا (10/ 462)
4603 - أَخْبَرَنَا خَلَّادُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِيُ بْنُ خَالِدٍ الْوَاسِطِيِّ بِنَهَرِ سَابُسَ عَلَى الدِّجْلَةِ، حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّرْقُفِيُّ، حَدَّثَنَا الْمَقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي أَبُو الْأَسْوَدِ، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَانَ فِي الرِّبَاطِ، فَفَزِعُوا إِلَى السَّاحِلِ، ثُمَّ قِيلَ: لَا بَأْسَ، فَانْصَرَفَ النَّاسُ وَأَبُو هُرَيْرَةَ وَاقِفٌ، فَمَرَّ بِهِ إِنْسَانٌ فَقَالَ: مَا يُوقِفُكَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "مَوْقِفُ سَاعَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ قِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ عِنْدَ الْحَجَرِ الْأَسْوَدِ"
❖ অর্থ : ............ হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে কিছু সময় অবস্থান করা লাইলাতুল কদরে হাজরে আসওয়াদ পাথরকে সামনে রেখে (সারা রাত্র) ইবাদত করার চেয়েও উত্তম।’’ সহীহ ইবনে হিব্বান-১০/৪৬২, শুয়াবুল ঈমান-৬/১৪০, হাদীস-৩৯৮১, আত তারগীব ওয়াত তারহীব লিল মুনজেরী-২/১৫৬, হাদীস-১৯০৭, জামিউস সগীর-১১৫৮২, সিলসিলাতুস সহীহ-৩/৫৭, হাদীস-১০৬৮ ইত্যাদি


❁ হাদীসটির মান : উক্ত হাদীসটি সম্পূর্ণ সহীহ। হাদীসটিকে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন ইমাম ইবনে হিব্বান, বায়হাকী, মুনজেরী, সুয়ূতী ও আহলে হাদীসদের মহাগুরু শায়খ নাসীর উদ্দীন আলবানীসহ অসংখ্য ইমামগণ। রেফারেন্স উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।
✔ মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক দ্বীন বুঝার তাওফীক দান করুন। আমীন
✍ ইতি মুফতী মো. ছানা উল্লাহ

ওরা আহলে হাদিস নয়!!! ইমাম বুখারী রঃ এর দুশমন!!!

ওরা আহলে হাদিস নয়!!!
ইমাম বুখারী রঃ এর দুশমন!!!
পর্ব(১)
ইমাম বুখারী রঃ তাঁর বুখারী কিতাবে ১০৮
পৃষ্ঠায় একটি হাদিস এনেছেন যার অর্থ হলঃ
মুক্তাদি সুরা ফাতিহা না পড়লও নামায হয়ে
যাবে যদি সে রাকাত পায়(সুবাহানাল্লাহ)
পক্ষান্তরে আহলে হাদিস ওরপে কাদিয়ানি
মাযহাবের সর্বশেষ্ঠ ফকীহুল গজব ইমামাতুশ
শায়তান ওহীদুজ্জামান তার মনগড়া লিখিত
বুখারী শরীফের ব্যখায় বলেনঃ
সুরা ফাতিহা মুক্তাদির জন্য ফরজ।তাই যে
ইমামের পিছনে ফাতিহা পড়ল না তার নামায
হয়না আর যার নামায হয়না সে বে-নামাজী
আর যে বে-নামাযী সে চিরস্থায়ী
জাহান্নামি(নাউযুবিল্লাহ)
দেখুন আহলে হাদিস মাযহাবের কিতাব
নাসরুল বারী পৃঃ১৩৩
&&&ফকিরে হানাফী আবির হুসাইন&&&

বাউলদের সম্পর্কে অজানা তথ্য

সাবধান ! মুসলমান --
বাউলদের সম্পর্কে অজানা তথ্য-
১) বাউলদের আগমন ঘটেছে হিন্দু ও বৌদ্ধদের সংমিশ্রন থেকে।
২) বাউলরা প্রেমভাজা নামক এক অদ্ভূত বস্তু খায়।যা মানুষের মল-মূত্র এবং পুরুষের বীর্জ এবং মহিলাদের রক্তস্রাব মিশ্রিত থাকে।
৩) বাউলরা অবাধ যৌনাচারে অভ্যস্থ। তারা দাবি করে, অবাধ যৌনাচার ও গাজা সেবন
ছাড়া সিদ্ধি (!) লাভ করা যায় না।
৪) বাউলদের বলা হয় ‘নাড়ার ফকির’। নাড়া অর্থ শাখাহীন, যাদের কোন সন্তান হয় না।
যদিও তাদের মূল সাধনা যৌনসাধনা, কিন্তু সে যৌন সাধনায় যেন সন্তান না হয় সেজন্য দীক্ষা গ্রহণের কালে তাদের গুরু কর্তৃক তাদেরকে sexo-yoga art বা যৌনযোগসাধনার শিক্ষা দেয়া হয়। এর ফলে তারা সঙ্গমকালে বীর্যপাত ঠেকিয়ে রাখে। সঙ্গমশেষে প্রজনন উপাদান
দিয়ে তারা প্রেমভাজা বানিয়ে খায়, অথবা তার সঙ্গিনী তা পান করে।
৫) বাউলরা লালন সাইকে তাদের নবী বলে দাবি করে।
৬) বাউলরা তাদের সঙ্গিনীকে জায়নামাজ বলে অভিহিত করে থাকে।
৭) বাউলরা পুরুষদের বীর্যকে ঈশ্বরজ্ঞান করে,তারা দাবি করে মহিলাদের রজ: পান করলে রোগ
প্রতিরোধ বাড়ে। এছাড়া তারা নারী দুগ্ধও পান করে থাকে।
৮) একজন বাউলের একাধিক সেবাদাসী থাকে। এদের অধিকাংশই কমবয়সী মেয়ে।
 

এদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বাউল সম্প্রদায় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায়, অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমও বাউলদেরকে সূফী-সাধকের মর্যাদায় বসিয়েছে। মূলতঃ বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত এসব বাউলরা তাদের বিকৃত ও কুৎসিত জীবনাচারণকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার জন্য বিভিন্ন গানে মোকাম, মঞ্জিল, আল্লাহ, রাসূল, আনল হক, আদম-হাওয়া, মুহাম্মদ-খাদিজাসহ বিভিন্ন আরবী পরিভাষা, আরবী হরফ ও বাংলা শব্দ প্রতীকরূপে ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যবহার করেছে। এদেশে বহুল প্রচলিত একটি লালন সঙ্গীত হলো,
“বাড়ির পাশে আরশি নগর/সেথা এক পড়শী বসত করে, আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”
এই গানটিকে আমাদের সমাজে খুবই উচ্চমার্গের আধ্যাতিক গান মনে করা হলেও, এটি মূলত
একটি নিছক যৌনাচারমূলক গান, যাতে আরশিনগর, পড়শী শব্দগুলো প্রতীক হিসেবে ব্যবহার
করা হয়েছে তাদের বিকৃত জীবনাচারকে গোপন
রাখার উদ্দেশ্যে।
আস্তাগফিরুল্লাহ !
আল্লাহ তা'লা মুসলামানদের সমস্ত ফিতনা থেকে হেফাযত করুন ।
আমিন আমিন ।।
Clltd --

নিজ ধর্মকে অবজ্ঞা

এবার দেখবো দেশের রাজনীতিবিদ,বুদ্ধিজীবী,টকশো,গণজাগরণ ও মিডিয়া হিন্দুদের মৌলবাদী,জঙ্গিবাদী বলে কিনা!!

হিন্দুদের দেবী দূর্গা ও তাদের পুজাকে অশ্লীল ও নোংরা ভাষায় কটুক্তি করার কারণে "ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস"কে তার নিজ ধর্মের লোকেরাই বলি দিয়েছে। ছবিতে দেখুন সে কিভাবে তার নিজ ধর্মকে অবজ্ঞা করেছে!!

মুসলিমদের এখন সময় দাতভাঙ্গা জবাব দেয়ার তাই একযোগে প্রত্যেকে পোষ্টটি দেখা মাত্র কপি/শেয়ার করুনঃ